মরিঙ্গা গাছের বীজ দিয়ে পানির মাইক্রোপ্লাস্টিক দূষণ দূর করার প্রক্রিয়া দেখানো হচ্ছে, যেখানে কণাগুলো একত্রিত হয়ে বড় হচ্ছে।
মরিঙ্গা গাছের বীজ দিয়ে পানির মাইক্রোপ্লাস্টিক দূষণ দূর করার প্রক্রিয়া দেখানো হচ্ছে, যেখানে কণাগুলো একত্রিত হয়ে বড় হচ্ছে।

মরিঙ্গা গাছ এখন শুধু পুষ্টিই নয়, পানি বিশুদ্ধকরণের সম্ভাবনাও তুলে ধরছে। যারা পরিবেশ ও স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতন, তাদের সঙ্গে নীরবে পাঠাতে পারো।

মরিঙ্গা বীজে পানির ৯৮.৫% মাইক্রোপ্লাস্টিক দূর ঘটনার ধারা ও মূল তথ্য

বিশ্বব্যাপী পানির মাইক্রোপ্লাস্টিক দূষণ এখন একটি গুরুতর পরিবেশগত সমস্যা। নদী, সমুদ্র থেকে শুরু করে ট্যাপের পানিতেও এই ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা পাওয়া যাচ্ছে। এর মধ্যে পলিভিনাইল ক্লোরাইড (পিভিসি) সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হিসাবে চিহ্নিত। এই প্রেক্ষাপটে ব্রাজিল ও যুক্তরাজ্যের গবেষকদের একটি দল মরিঙ্গা গাছের বীজের মাধ্যমে এই দূষণ কমানোর সম্ভাবনা খুঁজে পেয়েছেন।

গবেষণায় দেখা গেছে, মরিঙ্গা বীজের নির্যাস পানির মধ্যে থাকা মাইক্রোপ্লাস্টিক কণাগুলোকে একত্রিত করে বড় কণায় পরিণত করে, যা সহজে আলাদা করা যায়। পরীক্ষায় প্রায় ৯৮.৫% মাইক্রোপ্লাস্টিক অপসারণ করা সম্ভব হয়েছে। এই পদ্ধতি রাসায়নিক পদ্ধতির চেয়েও কার্যকর হতে পারে, বিশেষ করে ক্ষারীয় পানিতে।

তবে একটি সীমাবদ্ধতা রয়েছে—একটি বীজ দিয়ে প্রায় ১০ লিটার পানি বিশুদ্ধ করা যায়। তাই বৃহত্তর পানি পরিশোধন ব্যবস্থায় এর প্রয়োগ চ্যালেঞ্জিং। তবুও গ্রামীণ ও সীমিত সম্পদের এলাকার জন্য এটি পরিবেশবান্ধব ও টেকসই সমাধান হতে পারে। এখনো অন্য ধরনের মাইক্রোপ্লাস্টিক ও ন্যানোপ্লাস্টিকের ক্ষেত্রে এর কার্যকারিতা নিয়ে পরীক্ষা চলছে।

তথ্য

  • ব্রাজিল ও যুক্তরাজ্যের গবেষকদের মতে, মরিঙ্গা বীজের নির্যাস পানির ৯৮.৫% মাইক্রোপ্লাস্টিক অপসারণ করতে পারে।
  • গবেষণায় পলিভিনাইল ক্লোরাইড (পিভিসি) মাইক্রোপ্লাস্টিক ব্যবহার করা হয়েছিল, যা পানিতে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।
  • মরিঙ্গা বীজ প্রতি ১০ লিটার পানি বিশুদ্ধ করতে পারে, তাই বৃহত্তর পানি পরিশোধনে চ্যালেঞ্জ রয়েছে।
  • মরিঙ্গা বীজ পরিবেশবান্ধব, সহজে পচনশীল এবং ক্ষতিকর বর্জ্য তৈরি করে না।
  • গবেষণাটি এপ্রিল ২০২৬-এ প্রকাশিত হয় এবং সাও পাওলো স্টেট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক আদ্রিয়ানো গনসালভেস দস রেইস নেতৃত্ব দেন।

Canto-র ভিজ্যুয়াল সংবাদ ব্যাখ্যা। প্রযোজনায় AI সহায়তা করতে পারে। সম্পাদনা নীতি