
উদ্ভিদের আবাসস্থল সংকুচিত হচ্ছে, বিষয়টি দেখা কোনো বন্ধু বা পরিবেশ আগ্রহী সহকর্মীর সঙ্গে বোঝার মতো প্রেক্ষাপট।

গাছের পৃথিবী ছোট হচ্ছে ঘটনার ধারা ও মূল তথ্য
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পৃথিবীর অনেক উদ্ভিদ প্রজাতির বাসস্থান সংকুচিত হচ্ছে। একটি সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, এই শতকের শেষের দিকে ৭ থেকে ১৬ শতাংশ ভাসকুলার উদ্ভিদ তাদের বাসস্থানের ৯০% হারাতে পারে, যা বিলুপ্তির উচ্চ ঝুঁকি তৈরি করবে। গবেষণাটি ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয় ও ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক জুনা ওয়াং ও শিয়াওলি দংয়ের নেতৃত্বে পরিচালিত হয়েছে এবং ‘সায়েন্স’ জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।
গবেষণায় ৬৭,০০০ এর বেশি উদ্ভিদ প্রজাতির বিচরণক্ষেত্র বিশ্লেষণ করা হয়েছে, যা বিশ্বের পরিচিত ভাসকুলার উদ্ভিদের প্রায় ১৮%। ঝুঁকিতে থাকা প্রজাতিগুলোর মধ্যে রয়েছে ক্যালিফোর্নিয়ার ক্যাটালিনা আয়রনউড, ৪০ কোটি বছরের পুরনো ব্লুইশ স্পাইক-মস এবং অস্ট্রেলিয়ার ইউক্যালিপটাসের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ প্রজাতি। উদ্ভিদ নতুন জায়গায় ছড়িয়ে পড়লেও সেখানেও বিলুপ্তির হার কমছে না।
উদ্ভিদের আবাসস্থল শুধু তাপমাত্রা নয়, বৃষ্টিপাত, মাটির ধরন, ভূমির ব্যবহার এবং ছায়ার মতো বহু উপাদানের সমন্বয়ে তৈরি হয়। জলবায়ু পরিবর্তনে এই সমন্বয় নষ্ট হচ্ছে, ফলে উপযুক্ত আবাসস্থলের সংখ্যা কমছে। এর ফলে বাস্তুতন্ত্র কম কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করবে, যা আবার বৈশ্বিক উষ্ণতা বাড়াবে—একটি প্রতিক্রিয়ামূলক চক্র তৈরি হচ্ছে।
যদিও সব অঞ্চলে একই হারে প্রভাব পড়বে না। আর্কটিকে শীতনির্ভর উদ্ভিদ, মার্কিন পশ্চিমাঞ্চলে খরা ও দাবানল, অস্ট্রেলিয়ার উপকূলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উত্থান—সবই ভিন্ন চাপ তৈরি করছে। অন্যদিকে, পৃথিবীর প্রায় ২৮% স্থলভাগে স্থানীয় উদ্ভিদ বৈচিত্র্য বাড়তে পারে, কারণ কিছু প্রজাতি নতুন জায়গায় ছড়িয়ে পড়বে। কিন্তু এতে নতুন ধরনের উদ্ভিদসমাজ তৈরি হবে, যাদের পারস্পরিক সম্পর্ক এখনো অজানা।
উদ্ভিদ শুধু প্রকৃতির ভিত্তি নয়, মানুষের জন্য খাদ্য, কাঠ, ওষুধ এবং মাটির স্থিতিশীলতা নির্ভর করে তাদের ওপর। তাই উদ্ভিদ বৈচিত্র্যের পরিবর্তন মানুষের জীবনযাত্রাকেও প্রভাবিত করবে। গবেষকেরা বলছেন, উদ্ভিদ সংরক্ষণ শুধু প্রকৃতি রক্ষার বিষয় নয়, মানবসমাজের টিকে থাকার পরিবেশগত ব্যবস্থা বজায় রাখার সঙ্গেও জড়িত।
তথ্য
- গবেষণায় দেখা গেছে, এই শতাব্দীর শেষের দিকে ৭ থেকে ১৬ শতাংশ উদ্ভিদ প্রজাতি তাদের বাসস্থানের ৯০% হারাতে পারে।
- গবেষণাটি ৬৭,০০০ এর বেশি ভাসকুলার উদ্ভিদ প্রজাতি বিশ্লেষণ করেছে, যা বিশ্বের মোট প্রজাতির প্রায় ১৮%।
- ক্যালিফোর্নিয়ার ক্যাটালিনা আয়রনউড, ৪০ কোটি বছরের পুরনো ব্লুইশ স্পাইক-মস এবং অস্ট্রেলিয়ার ইউক্যালিপটাসের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ প্রজাতি ঝুঁকিতে রয়েছে।
- গবেষণাটি ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের জুনা ওয়াং ও ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিয়াওলি দংয়ের নেতৃত্বে পরিচালিত হয়েছে।
- পৃথিবীর প্রায় ২৮% স্থলভাগে স্থানীয় উদ্ভিদ বৈচিত্র্য বাড়তে পারে নতুন প্রজাতির ছড়িয়ে পড়ার কারণে।
- উদ্ভিদের আচ্ছাদন কমে গেলে বাস্তুতন্ত্র কম কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করবে, যা বৈশ্বিক উষ্ণতা আরও বাড়াবে।
Canto-র ভিজ্যুয়াল সংবাদ ব্যাখ্যা। প্রযোজনায় AI সহায়তা করতে পারে। সম্পাদনা নীতি





