হরমুজ প্রণালির নিচে সাবমেরিন ইন্টারনেট কেবলের ওপর ইরানের ফি আদায়ের হুমকি নিয়ে একটি ভাবনামূলক চিত্র, যেখানে সমুদ্রের নিচে কেবল ও ইরানি নৌবাহিনীর ড্রোন দেখা যাচ্ছে।
হরমুজ প্রণালির নিচে সাবমেরিন ইন্টারনেট কেবলের ওপর ইরানের ফি আদায়ের হুমকি নিয়ে একটি ভাবনামূলক চিত্র, যেখানে সমুদ্রের নিচে কেবল ও ইরানি নৌবাহিনীর ড্রোন দেখা যাচ্ছে।

হরমুজ প্রণালির সাবমেরিন কেবলে ফি আদায়ের হুমকি, ডিজিটাল যোগাযোগে ভবিষ্যতের ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা করা যেতে পারে এমন এক প্রযুক্তি নির্ভর বন্ধুর সঙ্গে।

ইরানের হরমুজ দিয়ে ডিজিটাল মাস্টারপ্ল্যান ঘটনার ধারা ও মূল তথ্য

ইরান হরমুজ প্রণালির নিচে প্রবাহিত আন্তর্জাতিক সাবমেরিন ইন্টারনেট কেবলের ওপর ফি আদায়ের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। ইরানি কর্মকর্তা ও রাষ্ট্রঘনিষ্ঠ গণমাধ্যম জানিয়েছে, গুগল, মাইক্রোসফট, মেটা ও আমাজনের মতো প্রযুক্তি দৈত্যদের কেবল ব্যবহারের জন্য লাইসেন্স ফি দিতে হবে। এছাড়া কেবল মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের একচ্ছত্র অধিকার থাকবে ইরানি কোম্পানির হাতে। এই হুমকি বিশ্বের ডিজিটাল যোগাযোগ ব্যবস্থার জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি করেছে।

হরমুজ প্রণালি পারস্য উপসাগরকে আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করে। এই সংকীর্ণ পথের মাধ্যমে বিশ্বের তেল রপ্তানির এক তৃতীয়াংশ প্রবাহিত হয়। এখন ইরান এই কৌশলগত অবস্থানকে ডিজিটাল ক্ষেত্রেও কাজে লাগাতে চাইছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ফ্যালকন ও জিবিআই নামের দুটি কেবল ইরানের জলসীমা অতিক্রম করেছে। তবে বেশিরভাগ কেবল ইরান এড়িয়ে ওমানের করিডর দিয়ে যায়।

ইরানের এই পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে দাবি করা হচ্ছে। তারা ১৯৮২ সালের জাতিসংঘের সমুদ্র আইনবিষয়ক কনভেনশন (আনক্লস) উদ্ধৃত করছে। কিন্তু ইরান এই চুক্তি অনুমোদন করেনি। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সুয়েজ খালের মতো কৃত্রিম নৌপথের সঙ্গে হরমুজের প্রাকৃতিক প্রণালির আইনি পার্থক্য রয়েছে। ফলে ফি আদায়ের দাবি আন্তর্জাতিকভাবে চ্যালেঞ্জযুক্ত।

যদি কেবল ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তবে বিশ্বের ডেটা প্রবাহ, ব্যাংকিং ব্যবস্থা, ক্লাউড সার্ভিস ও স্ট্রিমিং সেবায় ব্যাঘাত ঘটবে। ভারতের আউটসোর্সিং শিল্প বিলিয়ন ডলারের ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। আর যদি ইরানের মিত্র লোহিত সাগরেও একই কৌশল প্রয়োগ করে, তবে ক্ষতি আরও ব্যাপক হবে। তবে টেলিজিওগ্রাফি জানায়, হরমুজ প্রণালি অতিক্রমকারী কেবলগুলো বৈশ্বিক ব্যান্ডউইথের ১% এর কম বহন করে।

তথ্য

  • ইরান হরমুজ প্রণালির নিচে প্রবাহিত সাবমেরিন ইন্টারনেট কেবলে ফি আদায়ের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে।
  • গুগল, মাইক্রোসফট, মেটা ও আমাজনের মতো কোম্পানিগুলোকে লাইসেন্স ফি দিতে হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়েছে।
  • ফ্যালকন ও গালফ ব্রিজ ইন্টারন্যাশনাল (জিবিআই) নামের দুটি কেবল ইরানের জলসীমা অতিক্রম করেছে।
  • টেলিজিওগ্রাফির মতে, হরমুজ প্রণালি অতিক্রমকারী কেবলগুলো বৈশ্বিক ব্যান্ডউইথের ১% এর কম বহন করে।
  • ইরান আনক্লসের কথা উল্লেখ করেছে, কিন্তু চুক্তিটি অনুমোদন করেনি।

Canto-র ভিজ্যুয়াল সংবাদ ব্যাখ্যা। প্রযোজনায় AI সহায়তা করতে পারে। সম্পাদনা নীতি