একটি সবুজ ফুটবল মাঠের উপরে বিজ্ঞানীদের হাতে হাইব্রিড টার্ফ নমুনা দেখানো হচ্ছে, পটভূমিতে স্টেডিয়াম ও গবেষণা ল্যাবের ছবি।
একটি সবুজ ফুটবল মাঠের উপরে বিজ্ঞানীদের হাতে হাইব্রিড টার্ফ নমুনা দেখানো হচ্ছে, পটভূমিতে স্টেডিয়াম ও গবেষণা ল্যাবের ছবি।

বিশ্বকাপের মাঠের ঘাস এখন বিজ্ঞানের নতুন মানদণ্ড, ফুটবলপ্রেমী বন্ধুর সঙ্গে মিলিয়ে দেখার মতো এক টুকরো প্রেক্ষাপট।

৮ বছরের গবেষণায় বিশ্বকাপের ঘাস ঘটনার ধারা ও মূল তথ্য

২০২৬ সালের উত্তর আমেরিকা ফিফা বিশ্বকাপের মাঠের জন্য বিজ্ঞানীরা আট বছর ধরে কাজ করেছেন এক বিশেষ হাইব্রিড টার্ফ উন্নয়নে। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর ভিন্ন জলবায়ুতে মাঠের মান সমান রাখতে টেনেসি ও মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞদের নেতৃত্বে এই গবেষণা শুরু হয় ২০১৮ সালে। ফিফার নিয়ম অনুযায়ী সব ম্যাচ প্রাকৃতিক ঘাসে হতে হবে, কিন্তু আটটি স্টেডিয়ামে আগে থেকে কৃত্রিম ঘাস ছিল এবং পাঁচটি ইনডোর স্টেডিয়ামে সূর্যালোকের অভাব ছিল।

এই চ্যালেঞ্জের মুখে বিজ্ঞানীরা প্লাস্টিকের চাদরের ওপর বালু ও ঘাস চাষের এক অভিনব পদ্ধতি তৈরি করেন, যাতে ঘাস রোল আকারে স্থানান্তর করা যায়। কেন্টাকি ব্লুগ্রাস ও পেরেনিয়াল রাইগ্রাসের মিশ্রণে তৈরি হাইব্রিড টার্ফ খেলোয়াড়দের তীব্র গতি ও মোড় নেওয়ার সময় মাটি উপড়ে যাওয়া রোধ করে।

মাঠের সমতা পরীক্ষার জন্য ‘ফ্লেক্স’ নামের একটি রোবোটিক মেশিন তৈরি করা হয়েছে, যা খেলোয়াড়ের বুটের আঘাত অনুকরণ করে মাঠের শক্ততা মাপে। দুই শতাধিক পরীক্ষার পর এই ঘাস এখন সম্পূর্ণ প্রস্তুত, যা না শুধু বিশ্বকাপের মান বাড়াবে, বরং ভবিষ্যতের ক্রীড়া মাঠ ব্যবস্থাপনার ধারণাকেই পালটে দেবে বলে মনে করছেন গবেষকরা।

তথ্য

  • ২০১৮ সালে শুরু হয়েছিল বিশ্বকাপের মাঠের জন্য হাইব্রিড টার্ফ গবেষণা
  • টেনেসি ও মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা নেতৃত্ব দিয়েছেন প্রকল্পে
  • কেন্টাকি ব্লুগ্রাস ও পেরেনিয়াল রাইগ্রাসের মিশ্রণ ব্যবহৃত হয়েছে
  • প্লাস্টিকের চাদরে ঘাস চাষ করে রোল আকারে স্থানান্তরযোগ্য করা হয়েছে
  • ‘ফ্লেক্স’ রোবোটিক মেশিন মাঠের শক্ততা পরীক্ষা করবে
  • ১৬টি স্টেডিয়ামের মধ্যে ৮টিতে আগে কৃত্রিম ঘাস ছিল

Canto-র ভিজ্যুয়াল সংবাদ ব্যাখ্যা। প্রযোজনায় AI সহায়তা করতে পারে। সম্পাদনা নীতি